1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. banglaronusandhantv@gmail.com : বাংলার অনুসন্ধান : বাংলার অনুসন্ধান টিভি
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১০:১০ অপরাহ্ন
"
ব্রেকিং নিউজ
মাগুরায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েমা সোবহান আনভীরের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল মাগুরার শ্রীপুরে কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে ১ দিন ব্যাপী কৃষক নিবন্ধন সংক্রান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান, শ্রীপুর-মাগুরার সন্তান মেজর জেনারেল এ. টি. এম আব্দুল ওয়াহাব বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়ে গেল সর্বাত্মক লকডাউনের মেয়াদ বাড়লো আরও এক সপ্তাহ মাগুরা জেলার শ্রীপুরে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ভারতজুড়ে আর্তনাদ, হাসপাতালগুলোতে মিলছে না চিকিৎসা সেবা ! মাগুরা থেকে ঢাকা মহাসড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই সেতুর ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন ! মানবতার হাত বাড়িয়ে দিলেন দারিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান: জাকির হোসেন কানন কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ ঘোষণা
শিরোনাম
মাগুরায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েমা সোবহান আনভীরের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাগুরার শ্রীপুরে কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে ১ দিন ব্যাপী কৃষক নিবন্ধন সংক্রান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় যুবনেতা সাকিব হাসান তুহিনের ব্যতিক্রমী এক ইফতার বিতরণ। শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল বাজারে অগ্নিকান্ডে দোকান পুড়ে ছাই মাগুরায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ইফতার বিতরন শ্রীপুরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার সামগ্রী বিতরণ মাগুরায় শত্রুজীৎপুরে নিরীহ পরিবারের উপর হামলা মধুখালীর মধুমতি নদী ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজের উদ্বোধন মাদারীপুরের শিবচরে বাল্কহেডে স্পিডবোটের সংঘর্ষ :২৬ মরাদেহ উদ্ধার

মাগুরায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুস্পমাল্য অর্পণ

  • আপডেট করা হয়েছে রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইউনুছ আলী

স্টাফ রিপোর্টার

রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা ফাল্গূন আজ চিত্ত আত্মভোলা আমি কি ভুলিতে পারি একুশে ফেব্রুয়ারি’। চেতনার পথে দ্বিধাহীন অভিযাত্রী বেশে বাঙালিকে সর্বদা চলার প্রেরণা জোগায় একুশ। আজ সেই অমর একুশে। শোক বিহ্বলতা, বেদনা আর আত্মত্যাগের অহংকারে উদ্বেলিত হওয়ার দিন আজ।

সাহস, প্রত্যয় আর উদ্দীপনায় সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন। একই সঙ্গে আজ ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। আজকের দিনটি প্রত্যেক বাঙালির পাশাপাশি পৃথিবীর সকল মাতৃভাষাপ্রেমীর রক্ত টগবগে চেতনায় শানিত হওয়ার দিন। আজ বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউনেস্কোর ১৯৫টি সদস্য এবং ১০টি সহযোগী সদস্য রাষ্ট্র পালন করবে আমাদের একুশকে। পৃথিবীর ৬ হাজার ৯০৯টি ভাষার মানুষ পালন করবে দিবসটি।
মাগুরায় যথাযথ মর্যাদায় ভাষা শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।
মাগুরা-১ আসনের মাননীয় সংসদ এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সম্মানিত বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার ও  হাইকোর্টের বিচারপতি খায়রুল আলমের সঙ্গে নিয়ে ১২টা ১ মিনিটে মাগুরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে দিবসটি পালনের কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর  মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শ্রী বীরেণ শিকদার, জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, পুলিশ সুপার মোঃ জহিরুল ইসলাম, মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটি,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কু-ুসহ পর্যায়ক্রয়ে শতাধিক সরকারী, বে-সরকারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্প মাল্য অর্পন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে  সাইফুজ্জামান শিখর বলেন, ‘আসুন দলমত নির্বিশেষে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখি। সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।’
একুশের পথ ধরেই আমরা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, লাল-সবুজের পতাকা আর আত্মপরিচয়ের অধিকার অর্জন করেছি। তাই গৌরবোজ্জ্বল, প্রেরণায় মহিমান্বিত আর চেতনা শানিত করারও শক্তি হল একুশে ফেব্রুয়ারি। ফি বছর যখন বসন্ত আসে, কৃষ্ণচূড়ার শাখায় বসে দরাজ কণ্ঠ ছেড়ে কৃষ্ণ-কোকিল গান ধরে, পলাশ-শিমুল রক্তরাগে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ঝিরি ঝিরি দখিনা সমীরণের প্রবাহ ঘটায়, ছুড়ে ফেলে দেয় নির্জীবতাকে, তখনই চেতনায় নাড়া দিয়ে ওঠে যে, এসেছে ফেব্রুয়ারি। তাই তো বসন্তের সম্মিলনে আমাদের চেতনায় আল্পনা এঁকে দেয় অমর একুশে।
কৃষ্ণচূড়ায় সদ্য ফোটা ফুলের পাশে বসে কোকিলের কুহুতান যেন একুশেরই আহ্বান। এই একুশে জাতীয় জীবনে অবিনশ্বর এক মহা-উদযাপনে পরিণত হয়েছে বছরের পর বছর। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-দল-মত নির্বিশেষে উদযাপন করার মতো এমন কালজয়ী দিন সত্যিই দ্বিতীয়টি নেই।
আমাদের বাংলা বর্ণমালা বড়ই দুঃখিনী। কত কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে বাংলা বর্ণমালা আজ বিশ্বদরবারে সমাদৃত, স্বীকৃত। একসময়ে বাংলা ছিল অস্পৃশ্য। সংস্কৃত কিংবা উর্দু-ফার্সির কাছে বাংলা ছিল তুচ্ছ ও তাচ্ছিল্যের। ব্রিটিশ বিতাড়নের পর এলো পাকিস্তান। কিন্তু শোষিত বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস আরও দীর্ঘ হল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাবে না! উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা।
এভাবে দিনের পর দিন অপমানিত, লাঞ্ছিত হতে হতে বায়ান্নে জেগে উঠল বাঙালি। মায়ের ভাষার অপমান নয়। জ্বলে-পুড়ে মরবে, তবু মাথা নোয়াবে না চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্তের কাছে। সেই ফাল্গূনে পিচঢালা পথে এগিয়ে চলল মিছিল। গগনবিদারী স্লোগানে প্রকম্পিত আকাশ-বাতাস। চলল গুলি। লুটিয়ে পড়ল মিছিলের অগ্রগামী তরুণের দল। জীবন দিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না-জানা আরও অনেকে। রক্তস্নাত হল রাজপথ। সেই রক্ত স্রোতধারায় সিক্ত মাটিতে নির্মিত হল শহীদ মিনার। সেই শহীদ মিনারে আজ যাবে কোটি বাঙালি। যাবে পৃথিবীর কোটি মানুষ। বিনম্র শ্রদ্ধায় তারা স্মরণ করবে মহান বীর ভাষাসৈনিক ও শহীদদের।
বায়ান্নর সেই সোনাঝরা রোদ্দুরে রক্তস্নাত মোদের গরব মোদের আশাকে যথাযথ প্রকাশে একুশ চিরদিনই আমাদের শানিত চেতনা। একুশ আমাদের বাঁচতে শেখায়, লড়াই করে অধিকার আদায় করতে শেখায়। একুশ বাঙালি জাতির গর্ব ও অহংকার। ভাষাসংগ্রামের রক্তস্নাত সেই বিস্ফোরণ শুধু বাঙালির মায়ের ভাষাকেই শৃঙ্খলমুক্ত করেনি; বাঙালির স্বাধিকার, স্বাধীনতা, সব ধরনের বৈষম্য দূর করার সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণার উৎস।
বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি তথা যা কিছু মহান, সবকিছুতেই একুশের চেতনা বিদ্যমান। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা সেদিন হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই বাঙালির কাছে চির প্রেরণার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহর থেকেই জাতি কৃতজ্ঞ চিত্তে ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে। সবার কণ্ঠে বাজছে একুশের অমর শোকসঙ্গীত- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…।’
একুশের চেতনা আমাদের আত্মমর্যাদাশীল করেছে। একুশ মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, প্রতিবাদ আর যাবতীয় গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে শুভবোধের অঙ্গীকার। যে কারণে ১৯৫২ সালে সেই পলাশরাঙা প্রভাতের সূর্য অমিত সম্ভাবনার যেই স্বপ্ন-প্রত্যয় জাতির হৃদয়ে বপন হয়েছিল, সেই তেজোদীপ্ত বিদ্রোহের সুর আজও প্রতিটি ক্রান্তিকালে ধ্বনিত হয় বাঙালির হৃদয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
প্রকাশক কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত

Designed by: Nagorik It.Com